Posts

ব্রহ্মদৈত্য

Image
 নাম- ব্রহ্মদৈত্য পরিচালক- অভিরূপ ঘোষ অভিনয়ে- সায়নী ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ব্রহ্মদৈত্য নাম শুনলেই কীরকম একটা, পুরনো expire করা জিনিস বলেই ভাবি। ভ্যাম্পায়ার, ওয়্যারউল্ফের coolness টাই যেন তার মধ্যে নেই। কিন্তু সেই চরিত্রগুলোকে আধুনিকীকরণ করার চেষ্টা কী আমরা করেছি। সত্যি বলতে আমিও ওপরের দলেরই লোক কিন্তু এটা দেখে মনে হয়েছে, এ বিষয়ে আরো কাজ করলে আমাদের সংস্কৃতি বিনষ্ট হবে না। সিনেমাটা ভূত দেখানোর সাথে সাথে একটা ভালো মেসেজও দেয়। সিনেমাটা অত্যন্ত মারাত্মক প্রকৃতির নয়, কিন্তু কনসেপ্টর জন্য এক্সট্রা মার্কস দেওয়া যায়। তার সাথে কিছুটা কমিকও আছে। সিনেমাটা জুড়ে সায়নী ঘোষ সাবলীল অভিনয় করছেন। আর বাকিরা দেড় ঘন্টার সিনেমার তেমন বেশী সময় ধরে ছিলেন না। তবুও সৌমেন বোস আর রূদ্রনীলের কাজ মোটামুটি ভালোই লেগেছে। সর্বোপরি, এটা একটা ভূতের সিনেমা। দুটো জায়গায় jump scare দিয়ে চমকে দেয়। আর ব্রহ্মদৈত্যর মেকআপ ভয় ধরিয়ে দেবার মতো। ঐটি OTT platform এর বদলে হলে মুক্তি পেলে বেশী ভালো হত। রেটিং- 🌑🌑🌑🌑🌑🌑(6/10)

Cheeni(চিনি)-2020 movie review

Image
 নাম - চিনি(২০২০) পরিচালক- মৈনাক ভৌমিক মা-মেয়ের গল্প নিয়ে তো অনেক সিনেমা আছে, চিনিও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে চেনা পরিবেশে, অন্যরকম ভাবে পরিবেশন করাটাই সবথেকে ভালো লেগেছে। আসলে আমরা মায়েদের জন্য যে রূপটা কল্পনা করি, সেটা কী সবসময়ই হওয়া উচিৎ? তারা কী আমাদের মত সাধারণ মানুষ নয়? আমরা যে কাজগুলো করলে cool হয়ে যাই, তারা সেগুলো করলেই লোক দেখানো। কেন্দ্রীয় চরিত্রে মধুমিতা সরকারের অভিনয় প্রাণবন্ত। অপরাজিতা আঢ্য এই সিনেমাটিতে একদম অন্যরকম , নিজের প্রথাগত দিকটা ভাঙতে ভাঙতেও, যেন ওইরকমই থেকে গেলেন। তবে কম স্পেস নিয়ে, কিছু কিছু জায়গায় দুর্দান্ত টাইমিং ছিল সৌরভের। খুবই সাধারণ ছেলের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়, তবে সে যে 5স্টার হোটেলের শেফ কিন্তুু তাকে সবসময়েই চিনির মায়ের সঙ্গে থাকাটা একটু অবিশ্বাস্য লেগেছে। সব মিলিয়ে সিনেমাটা, মুড রিফ্রেশ করার জন্য ভালো। দেখবেন সিনেমা দেখার পর মনটা ভাল হয়ে যাবে আর কমিক ডায়লগ গুলোর জন্য হাসি তো বাঁধা আছে। রেটিং- 🌑🌑🌑🌑🌑🌑.🌗(৬.৫/১০)

ইশ্বর যখন বন্দী রিভিউ

Image
 নাম:- ইশ্বর যখন বন্দী(#১ রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজ) লেখিকা:- দেবারতি মুখপাধ্যায় জনরা- আ্যডভেঞ্চারের, ফ্যান্টাসি, থ্রিলার সবমিলিয়ে রেটিং: ৩.৫ দেবারতি মুখপাধ্যায়ের রুদ্র-প্রিয়ম সিরিজের প্রথম বই "ইশ্বর যখন বন্দী"। বইটিকে থ্রিলার বলা হলেও, আমার এখানে আ্যডভেঞ্চারের উপাদানটি বেশী লেগেছে।বইটা শুরুর দিকে মারাত্মকভাবে শুরু হয়। বিশেষ করে ডায়েরির অংশটি।এমনকি বৌদ্ধ ইতিহাস নিয়ে যে ক্ষুদ্র পরিসরে আলোচনা করা আছে, সেটাও প্রশংসা সাপেক্ষ। তবে সাপের কীরকম বিশেষ পদ্ধতিতে পা হতে পারে( কারণ ভুটানের ড্রাগনে পা আছে) অথবা কীভাবে পদ্মসম্ভব সেখানে সরীসৃপ পেলেন(কারণ ওই তাপমাত্রায় তো সরীসৃপ বাঁচে না, তাছাড়া অত বছর আগে প্রযুক্তিও অত উন্নত ছিল না) সেটা নিয়ে খটকা লাগলেও। ফ্যান্টাসির এলিমেন্ট হিসেবে ছাড় দেওয়া যায়। কিন্তু গল্পের শেষদিকটা একদমই শুরুর মতো না। কীরকম একটা তাড়াতাড়ি শেষ হল মনে হচ্ছে। বিশেষ করে ওরকম একটা ভিলেন পুরো শুকিয়ে গেল..😐।

রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ

Image
#review #web_series সিরিজ- রহস্য রোমাঞ্চ সিজন ১,২&৩ এটা আমার দেখা প্রথম web series যেখানে সিজন-৩ দেখার পর আমি, সিজন ১&২ দেখে শেষ করি। আসলে বাংলায় রহস্য বললেই সবাই বইয়ের পাতা থেকে চরিত্র এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। original অথচ একটু ভাল জিনিস প্রায় অস্তিত্ব রাখে না বললেই চলে।সেদিক থেকে খাস কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে এই web series এর গল্পকে একটু অবাস্তবও লাগতে পারে। এখানে কিছু প্রধান গল্প আছে, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কিছু শাখা-প্রশাখার মতো অন্য গল্প। প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে ঝন্টু দা শকুনি, কালো নেকড়ে অন্যতম। আর এখানে নবতম সংযোজন মরা(ওরফে পাগলা**)। ত্রিলোক চক্র সমিতির রহস্যময় গতিবিধিও ভালো লেগেছে, আর তার থেকেও ভালো লেগেছে,তাদের উপস্হিতি থাকা গল্পগুলো। সিরিজের সবথেকে রহস্যময় চরিত্রে সায়নীর অভিনয় মারাত্মক লাগবে। সিজন থ্রি-র শেষ দুটো গল্প পুরো ২টো সিজনকে ছাপিয়ে গেছে, তবে ঝন্টুদাকে সিজন-৩ তে অনেকে মিস করতে পারেন। বাংলাতে ভালো কোন রহস্যময় web  series নাম বলতে হলে আমি আপাতত রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজকেই এগিয়ে রাখব।

নগরকীর্তন review

Image
নাম:- নগরকীর্তন মুক্তি:- ২০১৭ পরিচালক:- কৌশিক গাঙ্গুলী ভাষা :- বাংলা #spoiler_free_review চারটি জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই সিনেমাটি বাংলা চলচ্চিত্রে একটি স্হায়ী আসন লাভ করে নেওয়ার মত সিনেমা।গল্পটি সহকামীতা, রুপান্তরকামী ও কিন্নর বা নপুংসকদের জীবন ভিত্তি করে নির্মিত, যাদের আমরা হিজড়া বলে চিনে থাকি। এদের সম্পর্কে বেশীরভাগ মানুষের জ্ঞান সীমিত এবং সমাজ বিরক্তির সাথে এদের বহিষ্কার করেছে।           গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পরিমল জন্মগতভাবে বা যৌনাঙ্গের বৈশিষ্ট্য অনুসারে একজন ছেলে কিন্তু অন্তরে সে একজন পরিপূর্ণা নারী। তার পরিবারের লোক তা মেনে নেয় না..পরে তার জীবনে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যার ফলে সে কলকাতায় আসে। সেখান থেকে কাহিনী আরম্ভ.....           পরিমলের চরিত্রে ঋদ্ধি সেন অতুলনীয়...আর এই প্রথা- বর্হিভূত চরিত্রে অভিনয় করতে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন সেটাই মূল উপভোগ্য...ঋত্বিক চক্রবর্তী নিজ চরিত্রে সাবলীল।           আসলে শিক্ষিত ও আধুনিক শব্দদুটি আমরা শুধুমাত্র আপেক্ষিক অর্থে ব্যবহার করি...বাস্তবে আমাদের সিদ্ধান্ত...

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসে নি। Review

Image
বইয়ের নাম :রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসে নি। লেখক:মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশনী :অভিযান পাবলিশার্স ধরন :থ্রিলার উপন্যাস রেটিং: 5/5 সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে আলোচিত থ্রিলার উপন্যাস। পাঠকদের আকৃষ্ট করার জন্য বইটির কৌশলগত নামই যথেষ্ট । এরকম অদ্ভুত হোটেলের নাম এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাঙালিদের চিরকালীন দুর্বলতা রসনাতৃপ্তি আর কবিগুরুর ঐতিহ্য।শুরুতে তেমন আকর্ষণীয় না মনে হলেও গল্প যত এগিয়েছে রহস্য কেন্দ্রীভূত হয়েছে। থ্রিলারটি শেষ পর্যন্ত আপনাকে ধরে রাখবে। অনেক থ্রিলারে যেমন আমরা গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের আগেই রহস্য সমাধান করে, বোমকেশ বা ফেলুদা সমান আভিজাত্য লাভ করি, এটি তার ব্যতিক্রম। উপন্যাসে প্রতিটি চরিত্রকেই সমানভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভাষায় মধ্যে জটিলতা না এনে সহজ ভাবে উপস্থাপন আর কথ্য ভাষার প্রয়োগ পরিলক্ষিত। আমার মনে হয়, এই বইটির জন্যই লেখকে বিশেষভাবে মনে রাখবে। বইয়ের শেষে আপনাকে বলতে বাধ্য করবে..."এটা কী পড়লাম!! "